কাটোয়ার দোকানগুলোতে জমিয়ে ভিড়, দুর্গাপুজোর কেনাকাটায় মাতলো মানুষ
কাটোয়া, পূর্ব বর্ধমান, ২৮শে সেপ্টেম্বর:
আর মাত্র কয়েকদিন পরেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। তার আগেই সেজে উঠেছে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া শহর। শহরের প্রধান বাজার থেকে অলিগলি - সর্বত্র এখন শুধু মানুষের ভিড়। দোকানগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে জমিয়ে কেনাকাটা।
গত দুই বছর করোনার পর এবার পুজোর বাজার যেন আরও জমজমাট। কাটোয়ার স্টেশন বাজার, সার্কাস ময়দান চত্বর, কাটোয়া-কালনা রোড এবং কলেজ মোড় এলাকায় গেলে দেখা যাচ্ছে একই ছবি। শাড়ির দোকান, জামা-কাপড়ের দোকান, জুতোর দোকান, কসমেটিক্সের দোকানে মহিলাদের লম্বা লাইন।
শাড়ি ও পোশাকের দোকানে উপচে পড়া ভিড়:
কাটোয়ার বিখ্যাত শাড়ির দোকানগুলোতে এখন সবচেয়ে বেশি ভিড়। দোকানদাররা জানাচ্ছেন, এবার হ্যান্ডলুম, জামদানি, কাতান এবং সিল্ক শাড়ির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। দাম ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত।
এক শাড়ি ব্যবসায়ী বলেন, "গত বছরের তুলনায় এবার বিক্রি ৪০% বেশি। মানুষ শেষ মুহূর্তে কেনাকাটা করছে। সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত পরার জন্য আলাদা আলাদা শাড়ি নিচ্ছেন মহিলারা।"
অন্যদিকে ছেলেদের পোশাকের দোকানেও ভিড় কম নয়। পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট এবং জিন্সের চাহিদা তুঙ্গে। বিশেষ করে কুর্তা-পাঞ্জাবির দোকানে যুবকদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। এবার ডিজাইনার পাঞ্জাবি খুব চলছে। দাম ৭০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে।
ছোটদের পোশাকের দোকানেও একই অবস্থা। বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের জন্য নতুন জামা কিনতে ব্যস্ত। ফ্রক, লেহেঙ্গা, ঘাগরা-চোলির চাহিদা বেশি।
*জুতো ও কসমেটিক্সের বাজার:*
পোশাকের সঙ্গে ম্যাচিং জুতো চাই। তাই জুতোর দোকানগুলোতেও লম্বা লাইন। কাটোয়ার বড় জুতোর দোকানগুলোতে সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় লেগেই আছে। লেডিস জুতো, হিল, স্নিকার্স সবই বিক্রি হচ্ছে দেদার।
কসমেটিক্সের দোকানে মহিলাদের ভিড় সবচেয়ে বেশি। লিপস্টিক, কাজল, মেকআপ কিট, চুড়ি - সবই কিনছেন তারা। এক কসমেটিক্স দোকানদার জানান, "পুজোর সময় আমাদের বিক্রি তিনগুণ বেড়ে যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।"
দাম কেমন?
ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, গত বছরের তুলনায় এবার সব জিনিসের দাম ১০-১৫% বেড়েছে। কারণ কাঁচামালের দাম বেড়েছে। তবুও মানুষের উৎসাহে কোনও ভাটা পড়েনি। সবাই চায় পুজোতে নতুন জামা পরতে।
এক ক্রেতা সুমিতা দাস বলেন, "সারা বছর অপেক্ষা করে থাকি এই পুজোর জন্য। তাই দাম একটু বেশি হলেও নতুন জামা কিনবই। আজ কাটোয়া বাজারে এসেছি পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করতে।"
প্রশাসনের ব্যবস্থা:
ভিড় সামলাতে কাটোয়া থানার পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাজারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য আলাদা টিম কাজ করছে। সিভিক ভলান্টিয়াররা মাইকে প্রচার করছেন যাতে চুরি বা পকেটমারি না হয়।
কাটোয়া পৌরসভার পক্ষ থেকেও বাজারে আলো এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। রাস্তার ধারে বসা অস্থায়ী দোকানগুলোকে নির্দিষ্ট জায়গা দেওয়া হয়েছে যাতে যানজট না হয়।
*অনলাইন বনাম অফলাইন:*
অনলাইন শপিং এর যুগেও কাটোয়ার মানুষ অফলাইন বাজারকেই বেশি পছন্দ করছেন। কারণ কাপড় হাতে ধরে, পরে দেখে কেনার মজাই আলাদা। তাছাড়া দোকানে দরদাম করার সুযোগ থাকে। অনেক দোকান আবার ১০% থেকে ২০% পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে।
এক তরুণ ক্রেতা বলেন, "অনলাইনে সাইজের সমস্যা হয়। তাই কাটোয়া বাজারে এসে নিজে দেখে কিনছি। এখানে অনেক ভ্যারাইটি পাওয়া যায়।"
*শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি:*
দোকানদাররা জানাচ্ছেন, এই শুরু হয়েছে এবং পুজোর ষষ্ঠী পর্যন্ত চলবে। অনেক দোকান এখন রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকছে। কর্মচারীরা দিনরাত কাজ করছেন ক্রেতাদের সামলাতে।
সব মিলিয়ে কাটোয়ায় এখন পুজোর আমেজ পুরোদমে। ঢাকের আওয়াজ এখনও শুরু হয়নি, কিন্তু কেনাকাটার ভিড় বলে দিচ্ছে মা আসছে। বাঙালির প্রাণের উৎসবকে ঘিরে কাটোয়া শহর এখন উৎসবমুখর।
আপনিও যদি এখনও কেনাকাটা না করে থাকেন, তাহলে তাড়াতাড়ি চলে আসুন কাটোয়া বাজারে। কারণ ভালো জিনিস কিন্তু তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাচ্ছে।
#katwa
#katwanews
#khoborkatwa
News network katwa 7din

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Thank you visit again